আসসালামু আলাইকুম
আজকে আমি আমার একটা অতীতের গল্প শেয়ার করি আপনাদের হয়তো উপকারে আসতে পারে,

আমি তখন কলেজে পড়তাম আর কলেজ আমার বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে নদী পার হয়ে যেতে হয়। আমি কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বাড়ি থেকে বের হবো এমন সময় হঠাৎ আম্মুর পেছন থেকে ডাকলো বলল শোন না বাড়িতে মরিচের গুঁড়ো শেষ হয়ে গেছে, একটু এনে দিস তো তুইতো কলেজে যাচ্ছিস আসার সময় একটা নিয়ে আসিস, তো আমি আম্মুকে বলি ঠিক আছে নিয়ে আসব, আমি সব সময় আমার বন্ধু বান্ধবীদের সঙ্গে করে যেতাম কিন্তু ঐদিন আমার একটু দেরি হওয়ার কারণে আমি একা পড়েছি পরে আমি একা একা যাচ্ছিলাম তোঁ ঘাটে গিয়ে দেখি নৌকা এপারে নেই। ঐ সময় ওখানে আমি ওয়েট করতে ছিলাম তাছাড়া কোন উপায় ছিল না। তখন আমার পাশে একটা ছেলে এসে দাঁড়ালো তখন আমি ভাবলাম হয়তো কোন যাত্রী কোথাও যাচ্ছে নৌকা পার হবে তাই এখানে আমার মত ওয়েট করছে, তখন বুঝতে পারিনি যে ছেলেটার মতলব খারাপ ছিল।নৌকা তে উঠলাম সেই ছেলেটা তখনও আমারি পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন আমি কিছু মনে করিনি কিন্তু হঠাৎ দেখি আমার কাঁধে কেউ হাত দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন ভেবেছি হয়তো অনেক যাত্রী তাই একটু ভিড়ের মাঝে হয়তো কোন মহিলা শক্তভাবে দাঁড়ানোর জন্য আমার কাঁধে হাত রেখেছে, কিন্তু আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছিল আমি যখন পেছন ঘুরে তাকাই তখন দেখি কোন মহিলা না বরং সেই ছেলেটা আমার কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে আমাকে খারাপ নজরে দেখছিল পরে আমি বুঝতে পেরে সরে গিয়ে দাঁড়ায় কিন্তু ছেলেটি আমার পিছু ছাড়ছে না, যখন সে আমার কাঁধে আবার হাত দিতে যায়, তখন আমার ব্যাগ থেকে একটা কলম বের করে তার হাতে একটা জোরে খোঁচা দি,পড়ে সে হাতে ব্যথা পেয়ে একটু সরে যায় তবে আমার পিছু ছাড়েনি, আমি আমার কলেজে গেছি আমাকে ফলো করে কলেজ পর্যন্ত গিয়েছে। সেখানে আমি ক্লাস করেছি প্রাইভেট পড়েছি তখনো সে আমাদের কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আমি যখন বুঝতে পারলাম যে সে গেটের সামনে, এবার প্রশ্ন আমি কি করে জানতে পারলাম সে গেটের সামনে কারণ আমি কলেজে এসে আমার বন্ধু বান্ধবীদের কাছে বলেছিলাম দেখ এরকম একটা ছেলে করছে সে লোকটা দেখতে এমন,, এরকম ড্রেস ছিল, পরে সবাই নানান প্রশ্ন করল আমাকে সে কি তোর পরিচিত? তুই আগে তাকে দেখেছিস ?কেন তোর পিছু করল ?আমি কি করে বলব বলুন আমিতো তাকে আগে থেকে দেখিনি আর আমি তো কিছু জানিনা সে হঠাৎ করে আমাকে এভাবে অস্বস্তিতে ফেলছে আমাকে ফলো করছে। আচ্ছা পরের ঘটনাটা বলি পরে আমি বাড়ি ফিরব তখন মনে পরলো আম্মু আমাকে শুকনো মরিচের গুড়া নিয়ে যেতে বলছে কি আর করার আম্মু যেহেতু বলছে ,তাই আমি আমার একটা বান্ধবীর সাথে যাই, ওদের বাড়ি আবার মিলের কাছে। মিল বলতে যেখানে ধান গম হলুদ মরিচ মাড়াই করা হয় ওটা, আমি ওখান থেকে মরিচের গুঁড়া কিনি আর ওদের বাড়ি যেহেতু মিলের কাছে তাই ওখান থেকে চলে যায়। তখন ছেলেটা আমার পেছনে ছিল না আমি ভেবেছিলাম হয়তো সে চলে গেছে এজন্য আমি একাই কলেজের পিছন দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন সময় হঠাৎ আমি আমার পিছনে কারো পায়ের আওয়াজ পাই হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখি সেই ছেলেটা, আমি খুব দ্রুত হাঁটতে লাগি তবুও সে আমার পিছন ছাড়ে নাই, আমি যখন প্রায় নৌকার কাছে তখন সে আমার থেকে দ্রুতগতিতে আমার সামনে এসে দাঁড়ায় তখন আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না কি করব, রীতিমতো আমার হাত-পা কাঁপছিল, ততক্ষণে আমি বুঝে গেছিলাম ছেলেটার মতলব ভালো না হঠাৎ আমার মাথায় এলো যে আমার কাছে শুকনো মরিচের গুড়া আছে। তো জেই না মাথায় আসা সেই কাজ ।তখন আমি আস্তে আস্তে আমার ব্যাগের ভিতর হাত দিয়ে এবং মরিচের গুড়ার পলিথিন ছেড়ে কিছুটা মরিচের গুঁড়া আমার হাতে নেই এবং ওই ছেলেটার চোখে ছুঁড়ে মারে তখন ছেলেটা মরিচের গুড়ার ঝালে খুব আর্তনাদ করতেছিল ওই সময় আমি ওখান থেকে পালিয়ে যাই এবং বাড়ি এসে সব কিছু বলি, পরে আমি সব সময় কারও না কারও সঙ্গে যেতাম।কখনো একা যেতাম না আমি এই জন্য এই গল্পটা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম যে আপনারা এরকম কোন পরিস্থিতিতে পড়লে সেটা খুব সহজে হ্যান্ডেল করতে পারেন ।এখন মেয়েরা সচরাচর সবাই ছোটখাটো ব্যবহার করে তাতে যদি একটা কলম আরেকটু মরিচের গুঁড়া থাকে তাতে সমস্যা কি, সেটা আপনার সেফটির জন্য কাজ করবে সব সময় আপনাকে রক্ষা করার জন্য কেউ থাকবে না। নিজের হাতিয়ার নিজেকে হতে হবে। আচ্ছা তাহলে পরে গল্পটির শোনা যাক তারপর থেকে আমি কখনো আর ছেলেটাকে আমার পিছনে তো দেখিনি। কখনো আজ পর্যন্ত আমি তাকে দেখিনি। সেদিনের ছোট্ট একটা ঘটনা আজও আমার শিহরিত করে সেদিন অনেক বড় কিছু হতে পারতো, তারপর থেকে আমি আমি আমার ব্যাগে সবসময় সেফটির জন্য একটা সাধারণত বেলেট একটা কলম আরেকটু মরিচের গুঁড়া রাখি। হয়তো অনেকের কাছে হাস্যকর লাগতে পারে। কিন্তু কখন আমার কাজে দেবে এটা কেউ বলতে পারেনা বিপদ কখনো বলে আসেনা। আসার পর জানা যায়, বোঝা যায়, যে বিপদে পড়ে সে জানে সেই সময় কতটা অসহায় লাগে, তাই আগে থেকে সচেতন থাকা ভালো।
মা ও বোনেরা ছোট বড় আপুরা আপনারা সাবধান ও সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করুন। নিজের সেফটির দায়িত্ব নিজেই রাখুন।অন্যর উপর ভরসা করে থাকবেন না নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।
ইতি
আয়সা হাসান ঐশী
1 Comments
Woow so nice story
ReplyDelete